‘‘অবসরতা হোক জীবনের সোনালীময় সময়’’

মহান আল্লাহ তা’য়ালার নেয়ামতসমূহের মধ্যে বড় একটি নেয়ামত হলো অবসরতা। মহামারী করোনা ভাইরাসে কাঁপছে আজ পুরো পৃথিবী। সকল মানুষ আজ অবরুদ্ধ। প্রতিনিয়ত বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। ক্ষমতাবানদের সকল ক্ষমতা যখন শেষ তখন পৃথিবীর ক্ষমতাবান শাসকসহ সকল মানুষ এক আল্লাহ তা’য়ালার দিকে তাকিয়ে আছেন। যিনি সকল ক্ষমতার একমাত্র মালিক। আল্লাহ আমাদের সবাইকে মহামারী করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা করুক। বর্তমান পরিস্থিতির কারনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ মানবজীবনের সকল স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অবসর সময় অতিবাহিত করছি। যে সময়গুলো আমরা আন্দোলনের দায়িত্ব পালনসহ বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত সময় পার করতাম। আর সেই গুরুত্বপূর্ন সময়গুলো এখন হয়তো বিশ্রাম ও অনলাইনসহ অন্যকোন কাজে অপচয় করে দিচ্ছি। মহাগ্রন্থ আল কোরাআন ও আল হাদীসের বিভিন্ন স্থানে সময়ের যথাযথ মৃল্যায়নের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন। মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ সময়ের কসম, নিশ্চয় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। (সূরা আল আছর ১-২)
মহাগ্রন্থ আল কোরআনের বহু জায়গাতে আল্লাহ তা’য়ালা সময়ের কসম করেছেন । মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ শপথ রাত্রির , যখন সে আচ্ছন্ন করে,শপথ দিনের যখন সে আলোকিত হয়। (সূরা আল লাইল ১-২)
সময়ের গুরুত্ব দিয়ে রাসূল (সাঃ) বলেন, তোমরা ব্যস্ততার পূর্বে অবসরতাকে গুরুত্ব দাও।(সহীহ বুখারী)।
অবসরতা যে মহান মালিকের কত বড় নেয়ামত সে সম্পর্কে রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেছেন যে,আল্লাহ তা’য়ালার দু’টি নেয়ামত রয়েছে। যেই নেয়ামতগুলো পাওয়ার পরেও অনেক মানুষ আছে যারা এর সঠিক ব্যবহার না করার কারনে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তরভুর্ক্ত তা হলো সুস্থতা ও অবসরতা। (সহীহ বুখারী)
আমরা জীবনে অনেক অবসর সময় অতিবাহীত করি। নবী করিম (সাঃ) এই অবসর সময়কে নেয়ামত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অবসর সময়গুলোকে যদি সুন্দর পরিকল্পনা করে সঠিক ভাবে কাজে লাগাতে পারি। তাহলে এই অবসরতা আমাদের জীবরে গতীপথ পরিবর্তন করে দিতে পারে এবং জীবন হতে পারে উজ্জ্বল ও সোনালীময়। অবসর সময়কে অপচয় না করে অন্যান্য কাজের পাশাপাশি নিন্মোক্ত কাজগুলো করতে পারলে অবসর সময়গুলো আমাদের জীবনে ইতিহাস হয়ে থাকবে।
 ইসলাম সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন করাঃ জ্ঞান হলো জীবন চলার পাথেয়। প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জ্ঞান অর্জন করা ফরয। রাসূল (সাঃ) বলেন, যার উপর যে দায়িত্ব পালন করা ফরয সে দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালনের প্রয়োজনে অহীর যতটুকু ইলম জানা জরুরী ততটুকু ইলম অর্জনই ফরয। খেলাফতের যে কঠিন দায়িত্ব আমরা পালন করি ইসলাম সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান না থাকলে সে দায়িত্ব পালন করা আমাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়বে। নবী করিম (সাঃ) এর প্রতি সর্বপ্রথম যে অহী অবতীর্ন হয়েছে সেইখানে জ্ঞান অর্জনের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ পড়ো, তোমার প্রভুর নামে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। (সূরা আল আলাক-১)
জ্ঞান অর্জন ছাড়া ব্যক্তি নিজেকে এবং মানুষকে সঠিক পথে পরিচালনা করতে পারে না। কোন বিষয় আমল করার জন্য সেই বিষয়কে আগে ভালো ভাবে জানতে হবে। মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি পরস্পর সমান হতে পারে? (সূরা আয যুমার-৯)
ইসলাম সম্পর্কে পুর্ণাঙ্গ জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে ইসলামী আন্দোলনের কাজ আরো বেগবান হবে (ইনশাআল্লাহ)। কেননা ভাসা ভাসা জ্ঞান অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমাদেরকে বিপদের দিকে দাবিত করে । মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ অথচ এ ব্যাপারে তাদের কোন জ্ঞান নেই। তারা কেবলই বদ্ধমূল ধারণার অনুসরণ করছে। আর ধারণা কখনো জ্ঞানের প্রয়োজন পূরণে কোন কাজে আসতে পারে না (সূরা আন নাজম-২৮)
অবসর সময়েকে অবহেলা বা অপচয় না করে, আমরা কোরআন,হাদীস,ইসলামী সাহিত্য অধ্যয়নসহ ইসলামের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন করে নিজেকে যোগ্যতা সম্পন্ন হিসেবে তৈরী করতে পারি।

 আল্লাহর সাথে গভীর সম্পর্ক তৈরী করাঃ- আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সাথে আমাদের যে সম্পর্ক থাকার দরকার ছিলো হয়তো নানা কারনে আমরা সে সম্পর্ক তৈরী করতে ব্যর্থ। অবসরতাকে কাজে লাগিয়ে আল্লাহর সাথে গভীর সম্পর্ক তৈরীর প্রশিক্ষন নিয়ে জীবনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত রাখার সংকল্পবদ্ধ হওয়া। যথাযথ ভাবে দীর্ঘ সময় নিয়ে মেীলিক ইবাদতসমূহ পালন করা,বেশী বেশী নফল ইবাদত ও দানসদকার মধ্য দিয়ে সর্বাবস্থায় আল্লাহকে স্মরন করা। বিশেষ করে আল্লাহ সাথে গভীর সম্পর্ক তৈরীর উপযুক্ত সময় হলো তাহাজ্জদ। যে তাহাজ্জদ রাসূল (সাঃ) এর উপর ফরয ছিলো। আমাদের জন্য ফরয নাহলেও রবের সাথে সম্পর্ক গভীর করার জন্য রাতে জাগ্রত হওয়া একান্ত প্রয়োজন। মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ হে বস্ত্র মুড়ি দিয়ে শয়নকারী! রাতের বেলা নামাযে রত থাকো। তবে কিছু সময় ছাড়া,অর্ধেক রাত,কিংবা তার চেয়ে কিছু কম করো অথবা তার ওপর কিছু বাড়িয়ে নাও। (সূরা আল মুযযাম্মিল ১-৪)
হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) এরশাদ করেছেন যে, মহান আল্লাহ তা’য়ালা প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে দুনিয়ার আসমানে অবতরন করে বলতে থাকেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *